Monday, November 19, 2012

চির গোপন


চির গোপন

তাহমিনা খান



ছায়ার সাথে ছায়ার দেখা
গোপন মিলন হয় !
মায়ার সাথে মায়ায় মিশে
মনের কথা কয় !
জাগল গায়ে চাঁদের জোয়ার
কণ্ঠে কাঁদে ভয় !
সেই তো ছিল তোমার আমার
প্রথম পরিচয় !

দেহের সাথে দেহের দেখা
এই জনমের নয় !
দূর হতে তাই দূরের পানেই
মন যে পড়ে রয় !
কেউ কি জানে কার সাথে কার
কোন সে কথা হয় !
তারার সাথে ফুলের কথা
মালার সাথে গলায় !

সাগর জলে চাঁদের লেখা
কে বুঝেছে কবে !
জলই জানে কি লেখা রয়
তাই তো উঠে ফুলে !
তেমনি করে তোমায় আমায়
কোন সে কথা হয় !
কেউ বুঝে না তাই সে ভাষা
চির গোপন রয় !

দহন

দহন


আহমেদ মুনীর


পড়ন্ত বিকেলে বৃষ্টি ভেজা মাঠে

আর কতকাল শাস্তি দিবে
আমার কষ্টে কাঞ্চনজঙ্ঘার কী আসে যায়
বিগলিত কুজঝটিকার অশ্রু ঝরে
কলকল প্রদাহ সাঁতার কাটে নিয়তির স্রোতে ।।

মাঝে মধ্যে প্রায়শঃ মনে হয় আমিও মৃত
আমার অতি প্রিয় আপনজন পিতা মাতা মাতামহ
সবুজ বৃক্ষ ঘোলা নদী নীল সাগর মেঘমালা
কাঁচা রোদ পাহাড় পর্বত গুহা বারোঁয়া পাহাড়ী টিলা
হারিয়ে গেছে হারিয়ে যায়
অনন্তকালে বিচ্ছিন্ন অবিচ্ছিন্ন দেশে
তোমার জন্যই কী জন্ম আমার
তোমার জন্যই কী আমি মৃত্যুর দিকে যাচ্ছি হেঁটে ।।

আমারই শব্দ আমারই কবিতা আমার গান
প্রধ্বনিত হয় শঙ্কিত প্রহরে
ভালবাসার অর্ঘ্যে প্রজাপতিরা নাচে
থমকে দাঁড়িয়ে যাই আমি
ভাসি অশ্রুমেঘে একাকী বালুকা দ্বীপে
অনিবার্য মৃত্যুর দহন
বারবার কাঁদায় আমাকে ।।

Sunday, November 18, 2012

নদী আর তুমি...


নদী আর তুমি...

মোঃ আমিনুল ইসলাম


নদীর স্রোত আর মনের স্রোত একটু কমতি নেই
নদী কষ্ট দিতে জানে ভাঙ্গতে পারে নদীর পাড়,
মনের স্রোত বড় স্রোত ভেঙে যায় জীবন
তুমি এ কেমন নদী–সুখের আশায় ভেঙে ফেলছ মনের সকল বাধঁ।

জোয়ারের টানে কেন এমন টান দিলে–
শিকড়সহ ডুমড়ে মুচড়ে পাড় ভাঙ্গার মতো ভাঙ্গলে আমায়
নদী একুল ভেঙ্গে ওকুল গড়ে—তুমি কি পার না একটু খানি ?
আর কত দিন পাড় ভাঙ্গা মনের মানুষ, কাতরাবে নদীর পাড়ে—সেই তরীর আশায়।

ঐ যে নদীর জলে ভেসে এলে এবুকে—বুক ভাঙ্গার তারনায়
নদী নামটির সঠিক বিচার করনি তাই আজ মনে হয়
চলছিলে কোন অজানায় ভেসে নদীর জলে
তুমি আর নদী —- কেন ভিন্ন দু’টি মন নয় ?

তরু লতার মতো যেকটাদিন ছিলে জড়িয়ে
কচি পুইয়ের ডগার মতো সর্বাঙ্গ বিলিয়ে
মনে হতো জন্ম তোমার বেশি দিন নয়–নবজাতকের দলে
এতো কোমল পুই ডগা, কিভাবে শিমের ডগায় এলে
ভাবতে ভাবতে তীরের কিনারা ফেলেছি হারিয়ে।

মানব রূপে অক্টোপাস !!


মানব রূপে অক্টোপাস !! 

রায়হান রানা


নিঃশ্বাসের বুকে আশ্বাসের প্রশ্বাস ডুকিয়ে
বিনীদ্র আঁধারে ঝুলিয়ে রেখেছি গন্তব্যের বারান্দা।

গুণে ধরা চেয়ারে দেহ এলিয়ে সোনালী স্মৃতিতে নিমজ্জিত কর্তারা।
পরিচিত সাপ গুলো খোলস পাল্টে ছোঁবল দিচ্ছে ক্রমাগত সবুজে;
রক্তিম লালে একটি সাদা অর্ধ চাঁদ এঁকে দেওয়ার বিষে।

গুপ্ত গুপ্ত হাত গুলো দানবের থাবার ছায়া নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে
সবুজ, সতেজ, সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অলি গলি।
সহজাতীয় উন্মাদের অট্ট হাঁসিতে কুলসিত সাধারণ জনগনের বিধান।
মৌলিক অধিকার গুলো চিরচেনা মুখভার অন্ধকারে।

আজকাল চেয়ার খোকা-খুকিরা সত্যকে গ্রহণ করে উপমা-রূপকথার গল্পে।
অভ্যাসে নতজানু মেরুদণ্ডের ভার লুকিয়ে থাকে খোর্মা খেজুরে।
আর চুপসে থাকা শকুন গুলো,
স্বাধীন মানবের সিল মোহরে অংকিত করে নির্বীর্যের চাঁদ তারা।

গিরগিটিও ঈর্ষান্বিত লেবাজের পর লেবাজের বেহায়া পনায়।
ধীরে ধীরে শকুন গুলো কুকুর হয়ে বেড়ে উঠে। লালার্ত জিহ্বায় লেহন করে
৩০লক্ষ শহিদ আর ২লক্ষ মা- বোনের ইজ্জত। আশান্বিত পুনরায় হামলে পড়ার প্রতীক্ষায়।

স্বাধীন সবুজ ঘাস মাড়িয়ে বেড়ে উঠা মানব বিবেক গুলো, নপুংশকের ফাঁদে
নেকড়ে হয়ে খামচে দিচ্ছে জাতির পতাকা। চিবিয়ে খাবার অপেক্ষায়
ইতিহাসের পাতা।

উপড়ে পেলা ফলের কর্মে গাছ মরেনা। আজ সময় এখন শিকড় উপড়ে পেলার।
কলঙ্ক মুক্তির দিবস দেওয়ার। নাকি? ছেনাল সময় পুঁজি করে গুণে ধরা চেয়ারে লোভের
বেহাল্লাপনায় মত্ত হওয়ার? বড় বেশি ভয় হয় এদের। এরাই তো মানব রূপে অক্টোপাস ।

তাই নিঃশ্বাসের বুকে আশ্বাসের প্রশ্বাস ডুকিয়ে
বিনিদ্র হাজার রাত অতিক্রম করে যাচ্ছি সেই একাত্তরের
শুদ্ধ স্মৃতি খুঁজে খুঁজে। সেই সোনালী বারান্দায়।

তোমাকে দেখা


তোমাকে দেখা 

এমদাদুল কাদের




তোমাকে দেখলে দুঃখের কথা ভুলে যাই 
তাকিয়ে থাকি এক দৃষ্টিতে 
মন্ত্রমুগ্ধের মতো যেন জাদুগরের কাজে সন্মোহিত 
দেখি তোমায়, তোমার দিকেই তাকাই ।
চোখের দিকে দেখলে নিজের অস্তিত্বই ভুলে যাই
আছি কি নাই...তাও বুঝি না
তাকাই ।
কি তুমি ? কি তোমার মনে আছে ?
যদি জানতাম...যদি বুঝতাম ?
যদি তোমার সব রহস্য এসে ধরা দিত
আমার হাতের মুঠোয়,
ইউরেকা নয়,
স্বর্গ পেয়েছি বলে
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতাম বিনা দ্বিধায় ।

তোমাকে জানতে চাই ।

ভালো থেকো অপেক্ষায় থেকো


ভালো থেকো অপেক্ষায় থেকো

মামনি দত্ত


তুমি (অথবা তোমারই মতো অনেকে) অপেক্ষা করছিলে
হেলে পড়া বট গাছের নিচে। দিনের শেষ বাসে সওয়ারী হয়ে
শহর কেন্দ্রিক জীবনে নিজেকে মেলে ধরার প্রবল অনিচ্ছার
স্রোতে স্নায়ুগুলো অবশেষে বিবশ!!!

বাস আসার আগেই তুমুল বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে
জুড়িয়ে গেলো তোমার শরীর। তবুও কালবৈশাখী খেলা করে
পুড়ে যাওয়া হৃদপিণ্ডের আঙিনায়!!
অভিমানে ফেটে পড়া চোখে জোড়াতালি দেওয়া সংসারের
সারাৎসার।

ফেলে আসা দৃশ্যগুলো তে পাকা ধানের গন্ধ মম করে ,
ছুটে চলা গ্রাম্য কিশোর বেলা ধীর পায়ে হারিয়ে যায়
পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে।

আহা! গভীর মমতায় মায়ের আঁচলের মিষ্টি গন্ধ
ক্ষতবিক্ষত মনের ঘরে দু দন্ড ছড়িয়ে দেয় শান্তি!
খর দৃষ্টি তে মেঘ মল্লারে নিরব আয়োজন।

তোমার সামনে এক শতকের খিদে দাঁড়িয়ে আছে দুহাত পেতে,
উড়ন্ত চাকায় পিষে যায় ওরা। তুমি চোখ মুছে বাসে উঠতেই
পেছনে পড়ে রইলো নিস্তব্ধ কালবেলা আর মুখে রক্ত
ওঠা খিদে।
পরম অনিশ্চয়তার চাদরে দুই পক্ষের
অপেক্ষা ঘুমিয়ে থাকে বিবর্ণ ক্লান্তিতে।।।।।

ভাগ্যের চাকা


ভাগ্যের চাকা

ওয়ালিনা ওভি

খুব লম্বা একটা লকলকে জিহ্বা ,
লেপ্‌টে আছে কপালে।
যা কিছুই লিখি না কেন ,
সব চেটে পরিষ্কার করে দেয় নিমিষে।
একটা অর্ধ গলিত হৃদয়ের কিছু অংশ হাতে ধরে ,
খুঁজে চলেছি ক্রমাগত কোন অছিদ্র পাত্র।
কিন্তু হায় মানুষের মনের আজ তলা নাই?
সব কিছু উজাড় করে দিলেও মেলে না উপায়।
হৃদয়ের মন্দিরে বসে গেঁথেছি ভাগ্যের মালা,
ওই লুকায়িত এক বিন্দু সিঁদুরে খুঁজেছি ভালবাসা।
নাহ বার বার হয় না, আর এভাবে চলে না।
সাঙ্গ করো খেলা।
হয় হৃদয়ে ধারণ করো,
নয়তো মনের ঘরে লাগিয়ে দাও মজবুত তালা।
ওই বিবেকের কপালে একটা ওজনদার লাথি মেরে,
ঘুরিয়ে দেব ভাগ্যের চাকা।

বারুদপোড়া ব্যথারতোড়া!!

বারুদপোড়া ব্যথারতোড়া!!


জুলফিকার হায়দার


অতন্ত্র-অধীর প্রতীক্ষার অগুণিত প্রমত্ত সিন্ধু সেঁচে
বুকে ভর দিয়ে গোটা ক'টি হিমযুগ ফেরিয়ে
অবশেষে, ওগো তোমার দেখা পেলাম এবং
বুকে জমা ব্যথার-পাথর সজোরে নিক্ষেপকরে
উম্মত্ত যমুনার গতিপথ পাল্টে দিলাম
আমি উল্টেগেলাম, বারকয়েক ডিগবাজি খেলাম!!
হুররে..কতদিন পর, কত-কত দিতে হল দর!

কিন্তু একী!!...........................
আমাকে একা রেখে তুমি তার কাছে গেলে!
তাকে তুলে নিলে, বুকে জড়ালে, গোটা কতেক
চুমু-ও খেলে, পরনের শুভ্রবস্ত্র ধীরে-ধীরে খুলে
কী গভীর মমতায়! গভীর বিশ্বাসে, চোখের জলে
দীর্ঘ দু'টি ঘন্টা ধরে কেবল তাকে চষে বেড়ালে
আমার কেমন জানি লেগেছিলো আবার ভালোও
লেগেছিলো, ভেবেছিলামঃ.....................
সন্তান ফিরেছে বুকে আনান্দ বুঝি ধরেনা তোমার!
এ তবে মানত ছিল! ওগো বিশ্বাসী জননী আমার

তবু প্রশ্ন জেগছিলোঃ.........................
আমার বিশ্বাসী জননী যতবার তাকে চুমু খেয়েছেন
যতটুকু ভক্তি-ভালোবাসায় চুমু খেয়েছেন
ততবার ততটুকু ভক্তি-ভালোবাসায় আমাকেও কী!
এমনকী আমার জনককেও কী!
হয়ত..................................তবুও,
মায়ের উর্বর-আদর পরশে যতটা ভালোবাসা শিখেছি আমি
যতটা শিহরণে ঘটেছে আমার মুক্তি-মানবিক-হৃদিক-জাগরণ
তার সাথে যায় কী এ উদহারণ?
কিংবা, যতবার মা তাকে অলীক-উষ্ণ বুকে জড়িয়েছেন
ততবার আমাকেও কী!
এমনকী আমার বাবাকেও কী!
হয়ত............................তবু ব্যথা লেগেছে,
মায়ের বুকের আশ্রয়ে সন্তান যেমন পরম নিশ্চিত
ডানামেলা চিরায়ত স্বাধীন চিল
অধিকার করে বসা অসীম আকাশ সুনীল
তারও কী অনুভূতির সে ফোয়ারা ছোটায় শান্তিধারা!!
এ পর্যন্ত আমি মেনেই নিয়েছিলাম
কিন্তু, মাগো! তোমার জন্য আমার
অনেক রক্তে-ঘামে কেনা উপহার
তুলে দিতে গেলে যখন বললেঃ
''ছুঁড়ে ফেলে দে, এ আমি নেবনা
তুই হারাম খাস.............
এটি হারাম টাকায় কেনা নয় কী?
বল,বল...এ পবিত্র গ্রন্থ ছুঁয়ে বল......."
তখন আমি কী যে করি!!!
কী ধরি? কী ছাড়ি? কী পারি? আমি কী যে করি!!!
কোথায় রাখি বারুদপোড়া ব্যথার তোড়া?
বুক মাড়াচ্ছে মত্ত-হাতি, পাগলা-ঘোড়া.........
তখন আমি জানলামঃ
আমার প্রিয় জননী আমাকে নয়,
কেবল তাকেই বিশ্বাস করে!!!
তাকেই কেবল বিশ্বাস করে!!!
সেদিন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি।।

মন্দ কি !


মন্দ কি !

রোকসানা রফিক

অপরিচয়ের বেড়াজালে নতুন করে
খুঁজে পেলাম তো্মায়, যে তুমি ছিলে
একদিন সবচেয়ে বেশী পরিচিত।

পথচলতি কুশলাদি, সৌজন্য কথা,
চোখে চোখ পড়লে চকিত চোখ ফেরানো,
বিস্মৃত অতী্ত খুড়ে হঠাৎ মনে পড়া কোনো সুখস্মৃ্তি।
গোপন দী্র্ঘশ্বাস, ঠোঁটের কোনে একচিলতে
বিষাদের হাসি, বদলে যাওয়া তো্মার মুখাবয়ব,
অপূ্র্ন হাজারো প্রতিশ্রুতি।

মনে হলো, মন্দ কি ! সেদিন হারিয়েছি বলে
আজ খুঁজে পেলাম অপরূপ এই মাধুর্যে !

Wednesday, November 14, 2012

নির্বাসিত আমি


নির্বাসিত আমি

তন্বী



ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে
আলোর মৃত্যু দেখতে সমবেত নর-নারীর কী আনন্দ!
গোধূলির সে অঞ্চল থেকে
আজ স্বেচ্ছায় নির্বাসিত আমি,
আমি এখন তাচ্ছিল্যের সিঁড়ি বেয়ে
সন্দেহের পালঙকে।
তাই কবি হয়েও
আমার কলমের ঠোঁটে আজ
কবিতার মাদকতা নেই!

জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো এখন আর আমায় স্পর্শ করে না,
তবুও
বাতাসের ঝাঁপটা তোমার বাহুকে উন্মুক্ত করলে
মাঝে মাঝে ভাবি ফিরে যাই তোমার কাছে,
হয়তো তুমি আজও দাড়িয়ে আছো
এক হাজার এক রাত্রি হাতে নিয়ে।
কিন্তু রাত জাগা পাখির বিলাপ
আমায় উত্‌কণ্ঠিত করে তোলে
আমার ফেরার পথ আটকে দাঁড়ায়।
তাই আমার ফেরা হয় না,
আমি ফিরি না!

একবার দেখতে চাই


একবার দেখতে চাই 

এমদাদুল কাদের


এক অসীম মহাশূন্যতায় ভাসছি
উড়ছি দিগবিদিগ ...গতিহীন
জবুথুবু বৃদ্ধ এক,
বৃদ্ধাশ্রমের বহুদিনের বাসিন্দা
যার স্বপ্ন হারিয়ে গেছে বহু আগে
জীবনের স্রোতে ।
স্বপ্ন দেখার সাধটুকুর শেষ সম্বল এক জোরা
নীল চোখে ভাসে দূরের দিগন্তে,
জোনাকির মতো মিটিমিটি করে,
দেখে কি আমায় ?
মৃতপ্রায় আমি যেন অমৃত পেয়ে ছটফট করি
ছুটে চলি দূরের দিগন্তে
এক নতুন উদ্যমে ।
ভালোবাসায় ভেসে ভেসে আমি যাই
ইঞ্চি ইঞ্চি করে,
গুনি প্রতিটা সেকেন্ড...মিনিট ...ঘন্টা
প্রতিটা রাত...প্রতিটা দিন ।

শুধু একবার মুখোমুখি দেখবো বলে ।

গর্বিত আমি বাঙালি

গর্বিত আমি বাঙালি


কুয়াশা


ও মাঝি দাঁড়াও...
ধিরে ধিরে বেয়ে যাও গোধূলির জলে।
গাঙশালিকের গাঙে সবুজের প্রতিচ্ছবি ছাপিয়ে
লাল সিঁদুর পড়েছে বাংলা বধু আমার,
ধিরে যাও বহতা তরী, ধিরে ধিরে বয়ে যাও।

উজান-ভাটীর দ্বন্দ কারনে বেলা ডুবে যায় ডাহুকের গানে।
সোনার শব্দাবলী জেগে ওঠে
কোজাগরী চাঁদের মত
হাস্নাহেনার গন্ধের মত
যুবতী নাগিনীর নাগমনির মত পরশ পাথরে মোড়ানো
কবিতার বর্ণমালা, আমার বাংলাদেশ।

এসো মাঝি, গানের গন্ধ নেই।
এখানে মোরগ গায় ঘুম ভাঙানির গান
সেই গানের তানে সুর মেলায় মুয়াজ্জিনের আযান,
এসো নোঙর কর এ চিরদুপুরের ঘাটে।
লজ্জাপতি চোখতুলে চেয়ে থাকে অচেনা আগন্তুকের চোখে
বাহারি ফুলের সমাবেশে মুচকি হাসে যুবতি গোলাপ
কাঠবিড়ালির ছোট্ট কুঁড়েতে শব্দরা বৈরাগ্য গায়
আর সে সুনিপুণ রাগে বেজে ওঠে ইদ্রিস ফকিরের
বিজয় শিঙা... বাজাও বাংলা বাজও সে অমরত্বের গান।

কবিতার বীজে নান্দনিক চারা হবে দেখে নিও মাটি।
শব্দভুক কবিতারা আবার জাগবে স্বদেশী স্বরে,
মা-মাটির কাব্যজাগানিয়া আমার ধমনীর অলংকার
এ বাতাস আমার শব্দের বিরানভূমি
চাষের ভুঁইয়ে লাঙল চাষা আমার ভাই
দেখে নাও অচিন মাঝি,
শেষ বিদায়ের মাঠ
আমি বাংলার মাটি, কাঁদামাটি জল
আমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে গর্বিত, আমি বাঙালি।

ঘর

ঘর


সুবর্না গোস্বামী


বিষণ্ণ পালকের পাখি,তোর ঘর বাঁধার কথা মনে পড়ে?
ঠোঁটে খড়কুটো ,বুকে অদম্য আকাঙ্খা,আনন্দিত স্বপ্ন ,
একটুকরো একান্ত আপন সংসার গড়ার ;অবিরাম।
আজ তোর সঞ্চিত খড়কুটোর ঠিকানা নেই ,নেই চিহ্নও ।
শুধু তোর বিষণ্ণ পালক ভাসছে হাওয়ায়,একলা
টুকরো .........টুকরো...... একা.........একা............
ঘর কোনোদিন ছিল ওদের! অবিশ্বাস্য।

কি করে আমাদের সঞ্চিত একমুঠো খড়ে বাঁধা ঘর
একদম একা,বিচ্ছিন্ন খরকুটোও দিকভ্রান্ত ,সর্বস্বান্ত !
লক্ষ্যহীন,ইচ্ছেহীন, আপত্তিহীন কেবলই উড়ে চলা ;সঙ্গহীন।
খসেছে বসন্তকালীন পালক গভীর আক্ষেপে ,
কেঁদেছে কথা দিয়ে না রাখার মূক বেদনায় ,
এখন নিঃশেষে নিরব চিরায়ত পাথর যেন
অচেনা গহীন দুঃখের ভারাক্রান্ত ভারে ;অসহায়।

তুই কি ভালবেসে কাঁদিস পাখি ? এখনও!
অক্ষুন্ন থাক তোর ছিঁচকাদুনে কান্নার স্বভাব ,
এই প্রার্থনা একমাত্র অন্তরীন আশীর্বাদের আমার ।
আজ পাথরের গুহায় ক্ষয়িষ্ণু শিলালিপি আমি ;ইতিহাস।
কঠিন থেকে কঠিনতর দিনশেষে,দিনের ভাঁজে ;প্রতিদিন,
হারাবার বেদনাহীন ,তোর শরীর সান্নিধ্যের লোভহীন ,
তরঙ্গহীন , নির্বাক হিম সুমুদ্দুর ,অন্তহীন মেরু রাত্রি;শীতকাল।
তুই আমার বরফ বুকের নীচে প্রবাহমান জল হয়ে থাক্
তুলনামুলক উষ্ণতার আদরে ; স্বভাবে তরলিত নদী ,গোপনে।
ভয় নেই যদি আবারও কোনোদিন বসন্ত আসে
মিশে যাব তোর সাথে এক রঙ ,এক অবয়বে ;যদি আসে!

কালের-চাতকী


কালের-চাতকী

সুমন কিশোর

বেদনায় প্লাবিত করুণ পূজারিণী!
ক্ষুধায় বিলি, তৃঞ্চার্থ-প্রাণের অঞ্জলি
তৃষাতুর চোখে ভাবি মোরে ভিখারিনী
দুর্দিনে বেদনা-শিখায় নিজেরে জ্বালি!
শোকে শোকে আজ নিশীথের কাঁটা বনে-
দূরের দিগ্বলয়ে দিশেহারা একাকী
সুখের লগন বিদ্ধ, কোন অভিমানে?
তৃঞ্চা-জাগানিয়া, ওহে কালের-চাতকী!

কিসের ঢেউ-এর দোলায় সবি ক্ষয়?
অজানিতা! শীত-বর্ষায় বাদলে ভরে
আমার কূল ভাঙে, দেখি ঐ পারে জয়!
আশার কাঁদনে ব্যথার পালক উড়ে।
না ফুরাল তৃষাতুর প্রতীক্ষার বেলা
না পূরিল অনন্ত চাওয়া-সুপ্ত বলা।।

তবেই হৃদয় হয় সুখময়


তবেই হৃদয় হয় সুখময় 

শামীম পারভেজ 


হৃদয় বেড়ায় হৃদয় মাঝে
তাজা হৃদয় হৃদয় খুঁজে
হৃদয় দিবে উজার করে
ভালবাসবে হৃদয় বুঝে ।

হাত বাড়ালেই পায়না হৃদয়
হৃদয় পাওয়া সহজ নয়
হৃদয় পেতে থাকবেনা ভয়
হৃদয় পেতে শ্রম দিতে হয় ।

হৃদয় হাতের মুয়া নয়
পেলেই তা করবে জয়
প্রকৃত হৃদয় পেতে হয়
তবেই হৃদয় হয় সুখময় ।

ভালোবাসি


ভালোবাসি

ওয়ালিনা ওভি


নির্লজ্জ অশ্রুগুলো -
চোখের শাসন মানে না।
ভালোবাসি।

বেহায়া চোখ নিস্পলক হয়ে যায়;
পুরোনো ছবির সামনে।
ভালোবাসি।

গলিত স্মৃতিগুলো - 
খামচে ধরে হৃদপিণ্ড,
ভালোবাসি।

কাঙ্গালের মত হাত বাড়িয়ে থাকি ;
তুমি ছুঁয়ে দেবে বলে।
ভালোবাসি।

রিক্ত হাতে মেহেদি লাগিয়ে -
রাতভর অপেক্ষা,
ভালোবাসি।

গোলাপ বিছানাতে চুড়ি ভাঙ্গার স্বপ্ন নিয়ে ;
পড়েছি রেশমী চুড়ি।
ভালোবাসি।

বিন্দু বিন্দু নোনা জলে ;
দেবো মধুচন্দ্রিমার অর্ঘ।
ভালোবাসি।

মিষ্টি সুখে চোখের কোল বেয়ে -
গড়িয়ে পড়া একবিন্দু অশ্রু ,
ভালোবাসি।

পুরোপুরি অন্ধ হবার আগে ;
একবার তোমার অস্তিত্বে বিলীনের স্বপ্ন দেখি,
ভালোবাসি।

পরস্ত্রী

পরস্ত্রী


মোহাম্মদ আন্ওয়ারুল কবীর



স্বপ্ন বিভোর ইজেল
প্রেম ছোঁয়া রঙতুলি
ক্যানভাস ধু ধু -
স্টুডিওতে একা
শূন্যে চাঁদশ্রী মায়া মুখ
তিল তিল তিলোত্তমা -
আচমকা কাঁচভাংগা
ইথারে অলৌকিক
'তোমার ভাবনায় নিয়ত আমি
আমি যে তোমার!'
মূহূর্ত্ই নিশ্চুপ নিথর সময় ।
এ যে ঘোর.. নেশায় কি আমি !
খেয়েছি কি ইয়াবা !!
কে সে.. কে সে.. কে সে
নয় তো রহস্য নারী কল্পিত বনলতা
ক্যানভাসে ক্রমশ: ভেসে ওঠো তুমি
এ যে পরস্ত্রী ! আমি কি ভালবাসি!!

Tuesday, November 13, 2012

মুন্ডমালিনী


মুন্ডমালিনী

অংকন সাতকাহন


শোণিত প্রবাহে নদী পায় নাব্যতা,
আর ধরিত্রী ত্রাহি রব ছাড়ে মূর্মূষূ আঘাতে;
প্রাণীকূলের আর্তনাদে বাতাস ভাবাবেগী-
অকথিত ক্রন্দনে বক্ষদুয়ার বিপর্যস্ত,
সমাজস্হ যত কালো, সে দীর্ঘকায় অবয়বে-
পাপের সাম্রাজ্য করে গোড়াপত্তন; 
আর তার লোমশ থাবায় শোষিত 
যত শিশু-কন্যা-জায়া।
উপাসনার ঘন্টাধ্বণি স্তম্ভিত-
গুমড়ে কাঁদে লেলিহান আগুনে মন্দিরচূড়ামণি,
গুঁড়িয়ে একাকার অত্যাচারী হাতে-
শৃঙ্খলিত অসহায়ের যাবত আহাজারি,
অহমিকার দম্ভে- ধর্মাঘাতে ধর্মই কাঁদে!
আর সব ছিঁড়েখুঁড়ে একাকার করে-
লোলুপ রক্তপিয়াসে ধ্বংসনেশায় মাতে 
মানব মুখোশে- আসুরিক শক্তিছায়া।

নিপীড়ত তখন ধর্মে কোটে মাথা-
অশ্রুক্লান্ত আঁখি ঊর্ধ্বাকাশে চায় অবশপ্রাণে,
শ্মশান যদি ওঠে টলে আরেকবার!
শ্যামাবেশী অগ্নিকুন্ড যদি- ছাইভস্মে সেজে,
আরেকবার আসে এলোকেশ ঝাঁকিয়ে তান্ডবে;
খড়গ কৃপানে কর্তিত বিনম্র শির-
মুন্ডমালার শোভা হয় হিংস্রাগুনে পুড়ে,
পায়ের তলায় দলিত মথিত শোষকদেহ
আরেকবার হুমড়ে পড়ুক দেবীর রুদ্ররোষে।
রক্তশোভা জিভের অনলে ঝলসাক জন্মের পাপ,
পাপী ভাসুক শোণিতস্রোতে স্বীয় মৃতদেহ আগলে।

দীপাবলির স্বপ্নে বিভোর প্রার্থনাবিভোর আঁখি- 
নিস্তেজ হয়ে মুদে পড়ে কালীকা চরণে,
তবু কলির স্হবিরতায় দেবীও আজ স্তম্ভিত;
যেন আজ করণীয় ভেবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেবী স্বয়ং!
তাই পাপী কেটে নিজেরাই পাপী হব,
আর পাপই জ্বালাবে শ্মশানানলে পাপীর দঙ্গল; 
এই বুঝি নিয়তি কলির!
তাই দীপেই দায়বদ্ধ দীপাবলি, 
আর প্রণামে নিবদ্ধ মুন্ডমালিনী;
আর স্বপ্নচোখে এক দেবীপ্রিয় ভোরের ।।

এক আকাশ কষ্ট


এক আকাশ কষ্ট

রোকসানা রফিক


এক আকাশ কষ্ট ছুঁয়ে যায় দৃষ্টি্র সী্মা,
অশান্ত ঘরছাড়া যাযাবর দিনে।
একরাশ ক্লান্তি ভর করে মনে,
তো্মার কো্মল পরশ বিহনে।
একজীবন একাকী কেটে যায়,
দূ্রগামী পরিযায়ী সুখের সন্ধানে।
এক আমি নিমেষে আধারে হারাই,
তো্মার মায়া ইন্দ্রজাল সম্মোহনে।

এক নদী ছলছ্ল কান্না জমে,
বুকের নী্রব নিথর গহী্নে।
এক সাগর কামনার ঢেউ ওঠে,
রাতের ধো্যাশা সুখ স্ব্পনে।
একরাশ শরতের শিউলি ফোটে,
পূজার প্রভাত রবির কিরনে।
এক তুমি ভুলের ফুল হয়ে ফোটো,
প্রেমের নন্দন কাননে বিজনে।।

মনোকংক্রিট


মনোকংক্রিট

জুলফিকার হায়দার



খামোখা ভয় পাবে কেন?এ তো শুধু বজ্রপাতের স্বর
একদা আরও জোরালো ছিল আমার অশ্রুপাতের স্বর!
তবু তুমি শোননি...............................

শোকের বালি,দুঃখের সিমেন্ট,ক্ষোভের ইস্পাতের সাথে
সেই অশ্রু জমে আজ হৃদয় আমার কঠিন কংক্রিট!!
যে কোন চাপ-ঘাত সয়ে যায় এমনি অবলিলায় যেন
ডানাওয়ালা মাথার চুল পাগলা বাতাশ ছুঁয়ে যায়!
বিবেকবারুদে আগুন ধরিয়ে চুমু খেয়েছি আবেগপারদে
আজ পিস্তল,রিভলভার, স্টেনগানকে পুরোনোদিনের
গানের কলির মত আকুতিঝরা সহজ সম্বল মনেহয়
নিজ সুখ-স্বপ্ন-ইচ্ছে-ভালোবাসাকে খুন করে-করে এ
দু'টি হাত আমার নিপুন পাকা ইস্পাত; যখন-তখন
যে কোন জীবন প্রদীপ নেভানো আমারকাছে এখন
ফুঁ দিয়ে জন্মদিনের মোমের আগুন নেভানোর মত কাংখিত
শুধূ বলো কোন মোমের আগুন নেভাবো এবার.........
তোমার না আমার? নাকি ঐ-সব শালার?

কাঁচের চুড়ি


কাঁচের চুড়ি

রেজা রহমান



কে বলে আমার হাতে কাজ নেই আর
একটু পেয়েছি আলো দিয়েছো তুমিই

সেই সাথে একটু অন্ধকার
বেরিয়ে পড়েছি আমি আলোঅন্ধকারে
জলবন্দি যাবো দূর জলের ওপারে।


দুগাছি কাঁচের চুড়ি কিনতে হবে পরাবো দুহাতে
সকালটা হেঁটে হেঁটে কখন যে পৌঁছে গেল রাতে
সকালটা ছিলো গতকাল
রাতটা পেরিয়ে দেখি আরেক সকাল
আবার বেরিয়ে পড়ি ঘুমঘুম চোখে
সোনার বদলে কাঁচ
কাঁচের চুড়িই হাতে পরতে হবে ওকে !



এমনও কি হতে পারে দেখি এক ভোরে
হাতদুটো গড়া ওর পরশপাথরে
কি হবে কাঁচের চুড়ি ও-হাতে পরালে
হাতই কাঁচের চুড়ি নেবে সোনা ক’রে !



পরশপাথর হাত ছোঁবো আমি পরাণপাথরে
ও কি খুব কাঁদবেনা
সংজ্ঞা মুহূর্তে যদি একটুও বৃষ্টি না ঝরে
না-ই যদি ঝরে বৃষ্টি ফোঁটায় ফোঁটা্য তারাফুল
ভেঙে কি যাবেনা ওর স্বপ্নটা মনে কি হবেনা সবই ভুল !



যে মেঘে বৃষ্টি ঝরে সেই মেঘই দেখে নাকি ক্ষরা
যে হাত কবিতা লেখে সে হাতই জেতে বুঝি জরা
সোনার কাঁকনই থাক তোমার সোনার হাতে পরা
কাঁচের চুড়িও সোনা তোমারই হাতে যে অধরা!



ভেবোনা আমার জন্য—
পাখপাখালিরা আছে সে তোমারই নামগান করা
নদী আছে দূরে কাছে অবশিষ্ট অশ্রুজলভরা
কথাবলা বৃক্ষছায়া কথাশোনা অবাক বৃক্ষরা!

শীতকাল


শীতকাল

তাবেয়া ইসলাম



অব্যক্ত গোপন কথা গুলো
দুই হাত মুখে দিয়ে বিস্ময়ের 

দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে 
ভাব গম্ভীর প্রকৃতির দিকে ।। 


চেয়ে চেয়ে দেখে টুপ টুপ ছন্দ তুলে 
শিশির বিন্দু গুলো ঝরে পড়ে 
দূর্বা ঘাসের বুকের উপর ।। 



কমলা বধু ধুসর রঙের ঘোমটা মুড়ি দিয়ে
লাজুক লজ্জাবতীর মতো উঁকি মারে
মেঘের আড়ালের মাঝে থেকে ।। 



শীতের এই বৃষ্টিকে বিষণ্ণ মনে হয় , 
তাই তো তাকে বুকে জড়িয়ে 
যতনে আগলে সমাদার করতে উতলা হয়ে যায় ।। 



হিমেল বাতাসকে বলে , 
“সোনা জান পাখি তুমি থাকো , 
তোমার যতনের একটু ও বিলম্ব হবে না , 
তোমাকে লেপ , কম্বল , কাঁথা আর 
যা লাগে সব দিয়ে ঢেকে উষ্ণতা দেয়া হবে ।। 



শিউলি ফুলকে হাতের উপর
তুলে বলে তুমি এত অভিমানী কেন ? 
তুমি তো আসো বছরে একবার
তারপর ও তুমি নিজেকে গুটিয়ে
নাও ক্ষণিকের মাঝে ,
তোমাকে তো সবাই ভালবাসে , 
তারপর ও তোমার কেন এত অভিমান ? 



আলসেমী এই শীতকালে 
ভালবাসার মানুষকে পাওয়া যায় 
আপন করে নিজের করে ,
তাই তো শীতের কাছে আবেদন 
তুমি থেকো অনেকদিনের জন্য , 
তোমার যাত্রার রেলগাড়িকে টা টা দিয়ে 
দূর শহরের দিকে ফেরত পাঠিয়ে দাও ।।

ঈশ্বর হাসেন


ঈশ্বর হাসেন 

বিলকিস আরা ক্ষমা 


তোমার কণ্ঠের একটি অদ্ভুত শব্দ আমার 
ভেতর জাগিয়ে দেয় এক আশ্চার্য অনুভূতি 
প্রেম বোধ হয় মানে না কোন বন্ধন
অধরে তুলি তৃপ্তির ঢেকুর।
এক সমুদ্র জলে ডুবি, তবু পিপাসা জরায় সমস্ত শরীর।
হৃদয় ভেসে যায় সমুদ্র ফেনায়।
ভালবাসার ক্ষুৎপিপাসা জেগে উঠে, 
ঈশ্বর হাসেন।
পথভ্রান্ত এক প্রেমিকা আমি... 
গিরি নির্গত ঝর্ণার পবিত্র জলের স্রোতের মত 
মন আমার ছুটে চলে কোন এক সাগর সঙ্গমের উদ্দশে,
ঈশ্বর হাসেন। 
প্রিয়তম, কেন এ অদর্শন? এই পবত্র হৃদয় যে
আজ তোমারই অপেক্ষায়।
তুমি স্বর্গীয় সুষমায় আধার স্বরুপ, প্রেমোউন্মাদিনী আমি,
মিশে যেতে চাই তোমার সত্তার মাঝে 
ঈশ্বর হাসেন….
শুধু ঈশ্বর হাসেন।

এ জীবন বৃথা যায়

এ জীবন বৃথা যায়


সনজিৎ মুৎসুদ্দি




মরিচিকার পিছে মিছে ঘুরে ঘুরে গেলো অনেক বেলা
জীবনের অনেকটা পথ এভাবেই কাটলো একেলা।
এখনো হয়নি ছোঁয়া মোর দিগন্তের রেখা
আজো পেলাম নাতো সেই ভালোবাসার দেখা !
ভেবেছিলাম রাজপুত্র হয়ে পঙ্খীরাজে চড়ে,
দৈত্য দানব পরাস্ত করে ভালোবাসাকে নিয়ে আসবো ঘরে
পারিনি আমি সেই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিলন ঘটাতে !
বিফলতায় চাওয়াটাকেই মন থেকে হয়েছে শেষে হটাতে।
ফুটেছে কত কেতকী, কদম্ব, গোলাপ, টগর
কত বসন্ত এলো গেলো, নিলো না কেউ মোর খবর !
পথহারা আমি আজ একা হাঁটি তিমিরে
এ জীবন বৃথা যায় উঠা আর হয় না তীরে।

হৃদয়ই হৃদয়কে বুঝে


হৃদয়ই হৃদয়কে বুঝে

শামীম পারভেজ 


তোমার পানে চাইবোনা
স্বপ্নে তোমায় দেখবোনা
দুঃখ কষ্টে মরবোনা 
প্রেমের গান গাইবোনা
করবোনা আর আশা
দিবোনা তো ভালবাসা ।

সপে দিলাম হৃদয়ের কাছে 
পুঞ্জিত যত ভালবাসা আছে 
হৃদয়ই হৃদয় খোঁজে
হৃদয়ই হৃদয়কে বুঝে ।

বিমুগ্ধ প্রেমিক


বিমুগ্ধ প্রেমিক

ফেরদৌস হাসান খান


ভালোবাসা মরে গেছে
প্রেমহীন নারীর শরীরে
নষ্ট হয়ে গেছে প্রেম
পরাজিত মনের স্মৃতির শ্যাওলায় জড়িয়ে।।

গোধূলির শোভায় আর মন বসে না
মুগ্ধতা মরে যায় কবিতার পাতায়
একই মনে এত প্রভেদ কেন ?
প্রশ্নের উত্তরে
শুধু অনবরত শব্দের জন্ম দিয়ে যাই।।

হৃদপিণ্ড চলে ভালোবাসার শবদাহ মিছিল
প্রতিটি নিঃশ্বাস বিলুপ্ত ভালোবাসার অনুভুতি
বেঁচে থাকে কেবল প্রেমের মরা বিমুগ্ধ প্রেমিক।।

অণুকথন - ৩


অণুকথন - ৩

যাযাবর জীবন 



হৃদয়:


পুরতে হলে আগুন লাগে
মনের মাঝে পোড়ায় কে? 
কষ্ট পেতে হৃদয় লাগে
বুকের খাঁচায় নেই যে সে...... 



ভ্রম:



বাসনা সব নিজের করে পাবার
বেদনা পেয়ে হারাবার
যেদিকে যাই তোকে খুঁজি
যেদিক চাই তোকে দেখি
ভ্রমে বসতি
জীবনের সর্বনাশ।




সীমাবদ্ধতা:



সীমারেখা হয় না ভালোবাসার
অনুভূতি কিংবা আবেগের
ভালোবেসে করি ভুল;
তবু সীমাবদ্ধতা রয়ে যায় সম্পর্কের 
মাঝে কিছু অদৃশ্য কাঁটা তারের বাঁধা
আমারই বোঝার ভুল।




প্রবঞ্চনা:



এখানে ওখানে দিনে আর রাতে
এখানে সেখানে মনের ভেতরে
নিজেতে নিজেরে খোঁজা
কিংবা কিছু হৃদয় কথন;
চাঁদেতে বাড়ানো হাত
না পাওয়ার বঞ্চনা
আর প্রাপ্ত সকল প্রবঞ্চনা
অপটু হাতে কবিতা বাঁধন।




উড়িয়ে দিলাম:



ভালোবাসার সব মিছে ছলনা
প্রেমের ভাইরাস সব দূর হয়ে যা;
কুরকুরে হৃদয়ের মুড়মুড়ে যাতনা 
ফুরিয়ে যাবার আগে চিবিয়ে খা।




পরিধি:



বৃত্তের বাইরে যেতে পারি নি আজো
মনের ভেতর থেকে পাই বাঁধা
প্রেমের বিড়ম্বনা সর্বনাশা...... 
তোর ভালোবাসা দিয়ে আঁকা
সীমাবদ্ধ পরিধিতে ঘুরে মরছে
জ্যামিতিক ভালোবাসা.........