Sunday, November 18, 2012

বারুদপোড়া ব্যথারতোড়া!!

বারুদপোড়া ব্যথারতোড়া!!


জুলফিকার হায়দার


অতন্ত্র-অধীর প্রতীক্ষার অগুণিত প্রমত্ত সিন্ধু সেঁচে
বুকে ভর দিয়ে গোটা ক'টি হিমযুগ ফেরিয়ে
অবশেষে, ওগো তোমার দেখা পেলাম এবং
বুকে জমা ব্যথার-পাথর সজোরে নিক্ষেপকরে
উম্মত্ত যমুনার গতিপথ পাল্টে দিলাম
আমি উল্টেগেলাম, বারকয়েক ডিগবাজি খেলাম!!
হুররে..কতদিন পর, কত-কত দিতে হল দর!

কিন্তু একী!!...........................
আমাকে একা রেখে তুমি তার কাছে গেলে!
তাকে তুলে নিলে, বুকে জড়ালে, গোটা কতেক
চুমু-ও খেলে, পরনের শুভ্রবস্ত্র ধীরে-ধীরে খুলে
কী গভীর মমতায়! গভীর বিশ্বাসে, চোখের জলে
দীর্ঘ দু'টি ঘন্টা ধরে কেবল তাকে চষে বেড়ালে
আমার কেমন জানি লেগেছিলো আবার ভালোও
লেগেছিলো, ভেবেছিলামঃ.....................
সন্তান ফিরেছে বুকে আনান্দ বুঝি ধরেনা তোমার!
এ তবে মানত ছিল! ওগো বিশ্বাসী জননী আমার

তবু প্রশ্ন জেগছিলোঃ.........................
আমার বিশ্বাসী জননী যতবার তাকে চুমু খেয়েছেন
যতটুকু ভক্তি-ভালোবাসায় চুমু খেয়েছেন
ততবার ততটুকু ভক্তি-ভালোবাসায় আমাকেও কী!
এমনকী আমার জনককেও কী!
হয়ত..................................তবুও,
মায়ের উর্বর-আদর পরশে যতটা ভালোবাসা শিখেছি আমি
যতটা শিহরণে ঘটেছে আমার মুক্তি-মানবিক-হৃদিক-জাগরণ
তার সাথে যায় কী এ উদহারণ?
কিংবা, যতবার মা তাকে অলীক-উষ্ণ বুকে জড়িয়েছেন
ততবার আমাকেও কী!
এমনকী আমার বাবাকেও কী!
হয়ত............................তবু ব্যথা লেগেছে,
মায়ের বুকের আশ্রয়ে সন্তান যেমন পরম নিশ্চিত
ডানামেলা চিরায়ত স্বাধীন চিল
অধিকার করে বসা অসীম আকাশ সুনীল
তারও কী অনুভূতির সে ফোয়ারা ছোটায় শান্তিধারা!!
এ পর্যন্ত আমি মেনেই নিয়েছিলাম
কিন্তু, মাগো! তোমার জন্য আমার
অনেক রক্তে-ঘামে কেনা উপহার
তুলে দিতে গেলে যখন বললেঃ
''ছুঁড়ে ফেলে দে, এ আমি নেবনা
তুই হারাম খাস.............
এটি হারাম টাকায় কেনা নয় কী?
বল,বল...এ পবিত্র গ্রন্থ ছুঁয়ে বল......."
তখন আমি কী যে করি!!!
কী ধরি? কী ছাড়ি? কী পারি? আমি কী যে করি!!!
কোথায় রাখি বারুদপোড়া ব্যথার তোড়া?
বুক মাড়াচ্ছে মত্ত-হাতি, পাগলা-ঘোড়া.........
তখন আমি জানলামঃ
আমার প্রিয় জননী আমাকে নয়,
কেবল তাকেই বিশ্বাস করে!!!
তাকেই কেবল বিশ্বাস করে!!!
সেদিন থেকে তাকে আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি।।

No comments:

Post a Comment