Wednesday, November 14, 2012

ঘর

ঘর


সুবর্না গোস্বামী


বিষণ্ণ পালকের পাখি,তোর ঘর বাঁধার কথা মনে পড়ে?
ঠোঁটে খড়কুটো ,বুকে অদম্য আকাঙ্খা,আনন্দিত স্বপ্ন ,
একটুকরো একান্ত আপন সংসার গড়ার ;অবিরাম।
আজ তোর সঞ্চিত খড়কুটোর ঠিকানা নেই ,নেই চিহ্নও ।
শুধু তোর বিষণ্ণ পালক ভাসছে হাওয়ায়,একলা
টুকরো .........টুকরো...... একা.........একা............
ঘর কোনোদিন ছিল ওদের! অবিশ্বাস্য।

কি করে আমাদের সঞ্চিত একমুঠো খড়ে বাঁধা ঘর
একদম একা,বিচ্ছিন্ন খরকুটোও দিকভ্রান্ত ,সর্বস্বান্ত !
লক্ষ্যহীন,ইচ্ছেহীন, আপত্তিহীন কেবলই উড়ে চলা ;সঙ্গহীন।
খসেছে বসন্তকালীন পালক গভীর আক্ষেপে ,
কেঁদেছে কথা দিয়ে না রাখার মূক বেদনায় ,
এখন নিঃশেষে নিরব চিরায়ত পাথর যেন
অচেনা গহীন দুঃখের ভারাক্রান্ত ভারে ;অসহায়।

তুই কি ভালবেসে কাঁদিস পাখি ? এখনও!
অক্ষুন্ন থাক তোর ছিঁচকাদুনে কান্নার স্বভাব ,
এই প্রার্থনা একমাত্র অন্তরীন আশীর্বাদের আমার ।
আজ পাথরের গুহায় ক্ষয়িষ্ণু শিলালিপি আমি ;ইতিহাস।
কঠিন থেকে কঠিনতর দিনশেষে,দিনের ভাঁজে ;প্রতিদিন,
হারাবার বেদনাহীন ,তোর শরীর সান্নিধ্যের লোভহীন ,
তরঙ্গহীন , নির্বাক হিম সুমুদ্দুর ,অন্তহীন মেরু রাত্রি;শীতকাল।
তুই আমার বরফ বুকের নীচে প্রবাহমান জল হয়ে থাক্
তুলনামুলক উষ্ণতার আদরে ; স্বভাবে তরলিত নদী ,গোপনে।
ভয় নেই যদি আবারও কোনোদিন বসন্ত আসে
মিশে যাব তোর সাথে এক রঙ ,এক অবয়বে ;যদি আসে!

No comments:

Post a Comment