Tuesday, November 13, 2012

মুন্ডমালিনী


মুন্ডমালিনী

অংকন সাতকাহন


শোণিত প্রবাহে নদী পায় নাব্যতা,
আর ধরিত্রী ত্রাহি রব ছাড়ে মূর্মূষূ আঘাতে;
প্রাণীকূলের আর্তনাদে বাতাস ভাবাবেগী-
অকথিত ক্রন্দনে বক্ষদুয়ার বিপর্যস্ত,
সমাজস্হ যত কালো, সে দীর্ঘকায় অবয়বে-
পাপের সাম্রাজ্য করে গোড়াপত্তন; 
আর তার লোমশ থাবায় শোষিত 
যত শিশু-কন্যা-জায়া।
উপাসনার ঘন্টাধ্বণি স্তম্ভিত-
গুমড়ে কাঁদে লেলিহান আগুনে মন্দিরচূড়ামণি,
গুঁড়িয়ে একাকার অত্যাচারী হাতে-
শৃঙ্খলিত অসহায়ের যাবত আহাজারি,
অহমিকার দম্ভে- ধর্মাঘাতে ধর্মই কাঁদে!
আর সব ছিঁড়েখুঁড়ে একাকার করে-
লোলুপ রক্তপিয়াসে ধ্বংসনেশায় মাতে 
মানব মুখোশে- আসুরিক শক্তিছায়া।

নিপীড়ত তখন ধর্মে কোটে মাথা-
অশ্রুক্লান্ত আঁখি ঊর্ধ্বাকাশে চায় অবশপ্রাণে,
শ্মশান যদি ওঠে টলে আরেকবার!
শ্যামাবেশী অগ্নিকুন্ড যদি- ছাইভস্মে সেজে,
আরেকবার আসে এলোকেশ ঝাঁকিয়ে তান্ডবে;
খড়গ কৃপানে কর্তিত বিনম্র শির-
মুন্ডমালার শোভা হয় হিংস্রাগুনে পুড়ে,
পায়ের তলায় দলিত মথিত শোষকদেহ
আরেকবার হুমড়ে পড়ুক দেবীর রুদ্ররোষে।
রক্তশোভা জিভের অনলে ঝলসাক জন্মের পাপ,
পাপী ভাসুক শোণিতস্রোতে স্বীয় মৃতদেহ আগলে।

দীপাবলির স্বপ্নে বিভোর প্রার্থনাবিভোর আঁখি- 
নিস্তেজ হয়ে মুদে পড়ে কালীকা চরণে,
তবু কলির স্হবিরতায় দেবীও আজ স্তম্ভিত;
যেন আজ করণীয় ভেবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেবী স্বয়ং!
তাই পাপী কেটে নিজেরাই পাপী হব,
আর পাপই জ্বালাবে শ্মশানানলে পাপীর দঙ্গল; 
এই বুঝি নিয়তি কলির!
তাই দীপেই দায়বদ্ধ দীপাবলি, 
আর প্রণামে নিবদ্ধ মুন্ডমালিনী;
আর স্বপ্নচোখে এক দেবীপ্রিয় ভোরের ।।

No comments:

Post a Comment